সারিকা(ছদ্ম নাম) আট মাস আগে একটি এন.জি. ও.তে চাকরী নিয়েছিল। চাকরীর সুবাদে তাকে বিভিন্ন স্থানে যেতে হয়। একবার তাকে কামাল (ছদ্ম নাম) নামে তার এক সিনিয়র অফিসারের সাথে একটা প্রকল্পে অংশগ্রহণ করতে সিলেটে যেতে হয়েছিল।
কাজের ফাঁকে ফাঁকে সারিকা আর তার অফিসারের সাথে একটা ভাব জন্মাতে থাকে।
এক সময় তাদের এই ভাব ভালবাসাই পরিণত হয়। সারিকা মনে প্রাণে কামালকে বিশ্বাস করতে থাকে।
কিন্তু কামাল সারিকা ছাড়াও এইভাবে আরো বহু মেয়েকে তার ফাঁদে ফেলেছিল যেটা সারিকা কখনও জানতে বা বুঝতে পারেনি। কামাল সারিকাকে একের পর এক মিথ্যে কথা বলে সপ্ন দেখাতে থাকে এবং বিয়ে করবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয়। ইতিমধ্যে কামাল সারিকাকে একটা অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে চাপ দিতে থাকে আর বলে “আর কিছু দিন পরেই তো আমাদের বিয়ে হবে, এতো ভয় কিসের”। সারিকা বাদ সাধে। কিন্তু কামালের জড়াজড়িতে আর কামালকে হারাবার ভয়ে সে আর কিছু বলতে পারেনি। এরপর কামাল ও সারিকার মাঝে বেশ কয়েকবার শারীরিক সম্পর্ক হয়ে যায়। কিন্তু দিন যায়, মাস যায় কামাল সারিকাকে “করছি, “করব” করে আর বিয়ে করে না।
কামাল ঐ এন.জি. ও.থেকে চাকরী ছেড়ে চলে যায়। এরপর কামাল সারিকার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। সারিকা হাজার চেষ্টা করেও কামালের নাগাল পায়নি। কিছু দিন পর সারিকা কামালের সন্ধান পেয়ে তাকে তাদের বিয়ের ব্যাপারে প্রশ্ন করতে থাকে। কিন্তু কামাল সারিকাকে বিয়ে তো দূরের কথা বরং বেশি বারাবারি করলে কামালের মোবাইলে ধারণ করা তাদের শারীরিক সম্পর্কের ভিডিও ক্লিপ ইন্টারনেটে ছেড়ে দিবে বলে জানায় এবং দশ দিনের মধ্যে তাকে পঞ্চাশ হাজার টাকা না দিলে কামাল এটাই করবে বলে হুমকি দেয়। এ কথা জানার পর সারিকার মাথায় যেন আকাশ ধ্বসে পরলো।
তখন চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া সারিকার আর কিছুই করার ছিল না। সমাজের লাজ-লজ্জা ভয়ে আর নিজের বোকামির কথা চিন্তা করে সে এসব কথা আর কাউকে বলতেও পারল না।
তার ভেতর কামালের প্রতি প্রচণ্ড ঘৃণা হতে লাগল আর দ্বিতীয় বার সে এই জঘন্য মানুষকে বিয়ে করার কথা ভাবতে পারেনি। ভেবেছিল আত্মহত্যা করবে। কিন্তু পরে নিজের অসহায়ত্তের কথা চিন্তা করে সে কামালকে ধার-দেনা করে পঞ্চাশ হাজার টাকা দিয়ে দেয়। ভাবলো কামাল আর কোন সমস্যা করবে না। এরপর বেশ কিছু দিন যাওয়ার পর আবার কামাল তাকে আরো পঞ্চাশ হাজার টাকা দেওয়ার জন্য খবর দেয় এবং না দিলে ইন্টারনেটে ও মোবাইলে তার গোপন ভিডিও ক্লিপগুলো ছেড়ে দিবে বলে জানায়।
কিন্তু এবার সারিকা আর সহ্য করতে পারেনি। সে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে। আইনের আশ্রয় নেওয়ার কথা চিন্তা করে এবং একটি মানবাধিকার সংস্থার সহযোগিতাও চায়। সেখানে সে মহিলা মানবাধিকার আইনজীবীদের কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলে। তাকে তারা সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং আইনের আশ্রয় নেওয়ার প্রস্তুতি নেন।
এবার দেখি দেশের প্রচলিত আইনে এসব অপরাধের বিরুদ্ধে কি বলা আছে বা এর প্রতিকারই বা কি? পর্ণোগ্রাফী নিয়ন্ত্রণ আইন – ২০১২ অনুযায়ী কোন ব্যক্তি পর্নোগ্রাফীর মাধ্যমে অন্য কোন ব্যক্তির সামাজিক বা ব্যক্তি মর্যাদা হানি করলে বা ভয়ভীতির মাধ্যমে অর্থ আদায় বা অন্য কোন সুবিধা আদায় বা কোন ব্যক্তির জ্ঞাতে বা অজ্ঞাতে ধারণকৃত কোন পর্নোগ্রাফির মাধ্যমে উক্ত ব্যক্তিকে মানসিক নির্যাতন করলে তিনি সর্বোচ্চ ৫ (পাঁচ) বৎসর পর্যন্ত সশ্রম কারাদ এবং ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ) টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ডে দন্ডিত হবেন। এছাড়াও কোন ব্যক্তি ইন্টারনেট বা ওয়েবসাইট বা মোবাইল বা অন্য কোন ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে পর্নোগ্রাফি সরবরাহ করলে এই ধরণের অপরাধের জন্য তিনি সর্ব্বোচ্চ ৫ (পাঁচ) বৎসর পর্যন্ত সশ্রম কারাদন্ড এবং ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ) টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ডে দন্ডিত হবেন।
আমরা দেশের আইন কানুন সম্পর্কে তেমন সচেতন নই। আবার অনেকে কোর্ট-পুলিশের ঝামেলা হবে মনে করে আইনের আশ্রয় নিতে চায় না। তাই এসব অপরাধ করতে অপরাধীরা আরো বেশি সাহস পেয়ে যায় এবং অপরাধের পুনরাবৃত্তি করে। তাই এখনই আমাদেরকে এসব অপরাধ ও অপরাধীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।
লেখকঃ ছাত্র ও মানবাধিকার কর্মী, চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
কাজের ফাঁকে ফাঁকে সারিকা আর তার অফিসারের সাথে একটা ভাব জন্মাতে থাকে।
এক সময় তাদের এই ভাব ভালবাসাই পরিণত হয়। সারিকা মনে প্রাণে কামালকে বিশ্বাস করতে থাকে।
কিন্তু কামাল সারিকা ছাড়াও এইভাবে আরো বহু মেয়েকে তার ফাঁদে ফেলেছিল যেটা সারিকা কখনও জানতে বা বুঝতে পারেনি। কামাল সারিকাকে একের পর এক মিথ্যে কথা বলে সপ্ন দেখাতে থাকে এবং বিয়ে করবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয়। ইতিমধ্যে কামাল সারিকাকে একটা অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে চাপ দিতে থাকে আর বলে “আর কিছু দিন পরেই তো আমাদের বিয়ে হবে, এতো ভয় কিসের”। সারিকা বাদ সাধে। কিন্তু কামালের জড়াজড়িতে আর কামালকে হারাবার ভয়ে সে আর কিছু বলতে পারেনি। এরপর কামাল ও সারিকার মাঝে বেশ কয়েকবার শারীরিক সম্পর্ক হয়ে যায়। কিন্তু দিন যায়, মাস যায় কামাল সারিকাকে “করছি, “করব” করে আর বিয়ে করে না।
কামাল ঐ এন.জি. ও.থেকে চাকরী ছেড়ে চলে যায়। এরপর কামাল সারিকার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। সারিকা হাজার চেষ্টা করেও কামালের নাগাল পায়নি। কিছু দিন পর সারিকা কামালের সন্ধান পেয়ে তাকে তাদের বিয়ের ব্যাপারে প্রশ্ন করতে থাকে। কিন্তু কামাল সারিকাকে বিয়ে তো দূরের কথা বরং বেশি বারাবারি করলে কামালের মোবাইলে ধারণ করা তাদের শারীরিক সম্পর্কের ভিডিও ক্লিপ ইন্টারনেটে ছেড়ে দিবে বলে জানায় এবং দশ দিনের মধ্যে তাকে পঞ্চাশ হাজার টাকা না দিলে কামাল এটাই করবে বলে হুমকি দেয়। এ কথা জানার পর সারিকার মাথায় যেন আকাশ ধ্বসে পরলো।
তখন চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া সারিকার আর কিছুই করার ছিল না। সমাজের লাজ-লজ্জা ভয়ে আর নিজের বোকামির কথা চিন্তা করে সে এসব কথা আর কাউকে বলতেও পারল না।
তার ভেতর কামালের প্রতি প্রচণ্ড ঘৃণা হতে লাগল আর দ্বিতীয় বার সে এই জঘন্য মানুষকে বিয়ে করার কথা ভাবতে পারেনি। ভেবেছিল আত্মহত্যা করবে। কিন্তু পরে নিজের অসহায়ত্তের কথা চিন্তা করে সে কামালকে ধার-দেনা করে পঞ্চাশ হাজার টাকা দিয়ে দেয়। ভাবলো কামাল আর কোন সমস্যা করবে না। এরপর বেশ কিছু দিন যাওয়ার পর আবার কামাল তাকে আরো পঞ্চাশ হাজার টাকা দেওয়ার জন্য খবর দেয় এবং না দিলে ইন্টারনেটে ও মোবাইলে তার গোপন ভিডিও ক্লিপগুলো ছেড়ে দিবে বলে জানায়।
কিন্তু এবার সারিকা আর সহ্য করতে পারেনি। সে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে। আইনের আশ্রয় নেওয়ার কথা চিন্তা করে এবং একটি মানবাধিকার সংস্থার সহযোগিতাও চায়। সেখানে সে মহিলা মানবাধিকার আইনজীবীদের কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলে। তাকে তারা সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং আইনের আশ্রয় নেওয়ার প্রস্তুতি নেন।
এবার দেখি দেশের প্রচলিত আইনে এসব অপরাধের বিরুদ্ধে কি বলা আছে বা এর প্রতিকারই বা কি? পর্ণোগ্রাফী নিয়ন্ত্রণ আইন – ২০১২ অনুযায়ী কোন ব্যক্তি পর্নোগ্রাফীর মাধ্যমে অন্য কোন ব্যক্তির সামাজিক বা ব্যক্তি মর্যাদা হানি করলে বা ভয়ভীতির মাধ্যমে অর্থ আদায় বা অন্য কোন সুবিধা আদায় বা কোন ব্যক্তির জ্ঞাতে বা অজ্ঞাতে ধারণকৃত কোন পর্নোগ্রাফির মাধ্যমে উক্ত ব্যক্তিকে মানসিক নির্যাতন করলে তিনি সর্বোচ্চ ৫ (পাঁচ) বৎসর পর্যন্ত সশ্রম কারাদ এবং ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ) টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ডে দন্ডিত হবেন। এছাড়াও কোন ব্যক্তি ইন্টারনেট বা ওয়েবসাইট বা মোবাইল বা অন্য কোন ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে পর্নোগ্রাফি সরবরাহ করলে এই ধরণের অপরাধের জন্য তিনি সর্ব্বোচ্চ ৫ (পাঁচ) বৎসর পর্যন্ত সশ্রম কারাদন্ড এবং ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ) টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ডে দন্ডিত হবেন।
আমরা দেশের আইন কানুন সম্পর্কে তেমন সচেতন নই। আবার অনেকে কোর্ট-পুলিশের ঝামেলা হবে মনে করে আইনের আশ্রয় নিতে চায় না। তাই এসব অপরাধ করতে অপরাধীরা আরো বেশি সাহস পেয়ে যায় এবং অপরাধের পুনরাবৃত্তি করে। তাই এখনই আমাদেরকে এসব অপরাধ ও অপরাধীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।
লেখকঃ ছাত্র ও মানবাধিকার কর্মী, চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
